বুধবার (১০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লিওনেল মেসি।
শুরুর একাদশে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। আর নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। মেসির গোলের আগে ও পরে স্কোরশিটে নাম লেখান ভ্যালেন্টিন বার্কো ও থিয়াগো আলমাদা। পুরো ম্যাচজুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আনহেল লাব্রুনার দখলে। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকা সেই কীর্তিই এবার ভেঙে দিলেন মেসি।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অবস্থা ও অনুভূতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মেসি। তিনি জানান, দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরা তার জন্য ছিল আবেগ ও উত্তেজনার মিশ্র অভিজ্ঞতা।
মেসি বলেন, শুরু থেকেই তিনি ম্যাচটা উপভোগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর মাঠে নামার অপেক্ষা তাকে আরও উচ্ছ্বসিত করেছে। যদিও ক্যাম্পে যোগ দেয়ার পর কিছুটা অস্বস্তি ছিল, তবে মাঠে নেমে ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে গেছে। তার ভাষায়, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল মূল লক্ষ্য, এবং নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারাটা ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনা ভীষণ উত্তেজনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে নামে। দলটি সবসময় আরও বেশি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোয়। ধাপে ধাপে এগোলেও তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা আগের মতোই অটুট।
ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় মেসি জানান, এই দল যা অর্জন করছে, তা তাদের প্রাপ্য। তারা সবসময়ই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে এই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা কখনো কমবে না।
তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হয়। তবে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রস্তুত করেছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। প্রতিপক্ষদের জন্য এই দল সহজ হবে না, কারণ তারা সবসময় প্রতিযোগিতামূলক ও জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।
বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে এই জয় আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। একদিকে মেসির রেকর্ড, অন্যদিকে দলের দাপুটে জয় সব মিলিয়ে প্রস্তুতি পর্বের এই ম্যাচ যেন বিশ্বকাপ মিশনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য।