আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাব সামনে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সীমিত সমঝোতার কথা রয়েছে। এতে ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে পারে, তবে পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে বলে জানা গেছে। একই সময়সীমায় নির্দিষ্ট মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও থাকতে পারে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার নিচে থাকবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
তৃতীয় ধাপে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর সংলাপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি লেবানন ও ইয়েমেনের সংঘাত প্রশমনের বিষয়ও এই কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থান এবং পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইসলামাবাদে পরোক্ষভাবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩০ দিন এই অঞ্চলের ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ এই সময়েই স্পষ্ট হবে প্রস্তাবটি বাস্তব শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারবে কি না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা