আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানকে ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। মস্কো স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাব তারা সমর্থন করবে না এবং এটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, এই খসড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের বদলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার আলিমভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকর কোনো রূপরেখা নেই। তার ভাষ্য, একতরফা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে তৈরি কোনো প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের সমাধান দিতে পারে না।
আলিমভ ওয়াশিংটন ও বাহরাইনকে খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপ প্রয়োগ বা একপাক্ষিক অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে সব পক্ষের মধ্যে আস্থাভিত্তিক কূটনৈতিক সংলাপ জরুরি।
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রস্তাবের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের একটি যৌথ খসড়াও আলোচনায় রয়েছে। ওই প্রস্তাবে সহিংসতা বন্ধ, শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, তাদের প্রস্তাব তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মস্কোর মতে, তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে। কারণ একপাক্ষিক পদক্ষেপ বা রাজনৈতিক চাপ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। আলিমভ বলেন, মস্কোর অবস্থান সবসময়ই সহিংসতা বন্ধ এবং রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সমঝোতাই বর্তমান সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যেখানে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্বশক্তিগুলোর এই বিভক্ত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার দিকে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো সমঝোতা না হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তথ্যসূত্র : তাস।