আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান ইস্যুতে চীনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় তিনি বেইজিং পৌঁছাবেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
এই সফরে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি, তেল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের মূল ফোকাস থাকবে ইরানের ওপর চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব, বিশেষ করে তেহরানের তেল রপ্তানি এবং সামরিক-অসামরিক খাতে ব্যবহৃত পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়।
হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার ট্রাম্পের সফর শেষ হবে।
তিনি এই সফরকে “অত্যন্ত প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় চীনের মাধ্যমে ইরানকে অর্থায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করবেন ট্রাম্প। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের অভিযোগ অনুযায়ী, চীন ইরানের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস), যা মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে বোয়িংসহ বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র। অন্যদিকে চীন এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।