আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে আশার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। মস্কোর রেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউরোপের দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত এখন ধীরে ধীরে সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ইউক্রেন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুতিনের বক্তব্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
এমন মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিরতির সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ না ঘটলেও উভয় পক্ষই একে অপরকে ছোটখাটো লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে ১০০০ জন করে বন্দি বিনিময়ের আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও ট্যাঙ্ক প্রদর্শনী এড়ানো হয়। একই সঙ্গে পুতিন তাঁর বক্তব্যে আবারও পশ্চিমা দেশ ও ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রাশিয়া এখন সমাধানের পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পুতিন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু শর্তও উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক তখনই সম্ভব, যখন একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি কাঠামো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে।
সূত্র: তাস।