আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত চারটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল বিনতে জবেইল, নাবাতিয়েহ ও টাইর জেলার বিভিন্ন এলাকা। এসব ঘটনায় হতাহতের আশঙ্কা করা হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যায়নি।
এর আগে শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে উপকূলীয় শহর সাকসাকিয়েহতে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধরনে একটি নির্দিষ্ট কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, এরপর সেখানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। তবে কিছু হামলা কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চল এবং বাফার অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকাগুলোতেও গোলাবর্ষণ ও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বড় একটি অংশ ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের নিশানা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার এমনই এক হামলায় এক সিরীয় ব্যক্তি ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে গুরুতর আহত হন। তারা মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি ড্রোন থেকে তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। পরে ড্রোনটি ফিরে এসে ওই ব্যক্তির ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এতে তিনি নিহত হন। এরপর তৃতীয় দফা হামলায় আহত মেয়েটিও মারা যায়।
একই ধরনের আরও কয়েকটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার অন্তত দুই থেকে তিনটি এমন অভিযানের খবর জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।