আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একটি ক্রুজ জাহাজ থেকে প্রত্যাবাসনের পর এক মার্কিন ও এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরিটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরার পর প্রাথমিক পরীক্ষায় দুই যাত্রীর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর আগে একই জাহাজে অবস্থানরত নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি এবং জার্মানির এক নারীসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ফরাসি নারী বর্তমানে প্যারিসের একটি হাসপাতালে কঠোর আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার সংস্পর্শে আসা অন্তত ২২ জনকে শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে থাকা আরেক মার্কিন নাগরিকের শরীরে হালকা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উভয় রোগীকেই বিশেষ বায়োকনটেইনমেন্ট ইউনিটে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাহাজটিতে থাকা ৯০ জনের বেশি যাত্রীকে ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন দেশ বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে নিজেদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্রিটেন, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে যাত্রীরা দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানের সময় ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ালেও ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ হিসেবে পরিচিত এই ধরনের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমদিকে জ্বর, ক্লান্তি, পেশি ও পেটব্যথা, বমি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ফুসফুসে জটিল সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। তবে কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত বিস্তার না ঘটায় সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্রুজ জাহাজ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য ৪২ দিনের পর্যবেক্ষণ ও কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দিয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায় না, তবে সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ক্রুজ জাহাজ কেন্দ্রিক এই সংক্রমণ নতুন করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি