আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
দীর্ঘ সময়ের সীমিত ও আংশিক বাণিজ্য নীতির পর অবশেষে সিরিয়ার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নতুন এই সিদ্ধান্তকে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বে সিরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আংশিকভাবে স্থগিত থাকলেও এখন তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে আসছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সক্রিয় ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হলো।
এদিকে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল সারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করেছেন। এতে তার ঘনিষ্ঠজনদের পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে পরিবর্তন এসেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তার আপন ভাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন হোমস প্রদেশের সাবেক গভর্নর আব্দুর রহমান বাদরুদ্দিন আল আমা। একইসঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, দুই হাজার চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা বাসার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আহমেদ আল সারা সিরিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দুই হাজার পঁচিশ সালের মার্চে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পাঁচ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। সেই সরকারে ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন সিরিয়ার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে নতুন দিক দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।