• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চরম চাপে স্টারমার, পদত্যাগ দাবি ৭০ লেবার এমপির

প্রতিবেদক / ৪০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে দলীয় চাপ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর এবার প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন দলটির ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে চারজন সংসদীয় সচিবের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।

সোমবার (১১ মে) লন্ডনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্টারমার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও তা দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লেবার পার্টির অনেক নেতা ও সংসদ সদস্যের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সাধারণ সংসদ সদস্যরাই নন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেও স্টারমারবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদসহ অন্তত তিনজন মন্ত্রী তাকে সরে দাঁড়ানোর সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা তৈরির পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কেয়ার স্টারমারের প্রতি দলীয় সংসদ সদস্যদের আস্থা প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও পড়ছে।

তবে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেও আপাতত সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি স্টারমার। লন্ডনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্টারমার আরও বলেন, তিনি নিজেকে আরও সাহসী ও কার্যকর নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চান এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু তার এই আশ্বাসেও দলের ভেতরের অসন্তোষ কমেনি। বরং আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলেছেন কয়েকজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের স্থলে নতুন নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তবে হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র ছাড়া তার পক্ষে এখন আর কাউকে জোরালো অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির মতো ঘনঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে চাইছে লেবার নেতৃত্ব। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও কেয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে।

সূত্র : রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা