• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

ট্রাম্পের জন্য চার ‘রেড লাইন’ দিল চীন

প্রতিবেদক / ৪৮ বার
আপডেট : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

চীন সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। সফরের আগে ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে তার সঙ্গে আলোচনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ইরানকে নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছে। তবে এ অবস্থার মধ্যেই ওয়াশিংটনের জন্য চারটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে বেইজিং।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এই চারটি বিষয় কোনোভাবেই ‘চ্যালেঞ্জ করা যাবে না’। সেগুলো হলো—তাইওয়ান ইস্যু, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং চীনের উন্নয়নের অধিকার।

চীনের মতে, তাইওয়ান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি চীনের ‘মূল স্বার্থেরও মূল অংশ’। তাই তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক ও অস্ত্র বিক্রিকে বেইজিং সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে।

বেইজিংয়ে এক ব্রিফিংয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দফতরের মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, চীনের তাইওয়ান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক সম্পর্কের আমরা কঠোর বিরোধিতা করি। একইভাবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিরও আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধী।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্যাকেজগুলোর একটি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক চীন’ নীতি অনুসরণ করলেও তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয় না। তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের আত্মরক্ষার জন্য সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

চীন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

বেইজিং বলছে, তাদের কমিউনিস্ট পার্টিনির্ভর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রফতানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতা এবং দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

ইরান যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের কাছ থেকে বড় ধরনের সহযোগিতা আশা করলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বেইজিং সে পথে হাঁটবে না।

দোহার ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–কে বলেন, চীন কখনোই ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইবে না।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখে চীন। ফলে ওয়াশিংটনের চাপের মুখেও বেইজিং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাত নয়; এটি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থেকেও তেহরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা