আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইউক্রেনে আবারও ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রাতভর চলা এই হামলায় কিয়েভ, ওডেসা, লভিভসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। জ্বালানি ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় পুরো দেশে আতঙ্ক ও অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলা এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনা বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
এদিকে রুশ হামলার পরপরই প্রতিবেশী দেশ ও ন্যাটো জোটভুক্ত পোল্যান্ড তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয় দেশটি।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, রাশিয়া ড্রোন হামলার পর এবার বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও দুর্বল করা।
অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এর মধ্যে ওরেনবার্গ অঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় সফল হামলার কথাও জানিয়েছে কিয়েভ। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রাতভর বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক ও কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় তিন শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ ও ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নরদের পদত্যাগের খবরও সামনে এসেছে। এর পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেখানে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নিয়োগ দেন।
অন্যদিকে ক্রেমলিন আবারও যুদ্ধবিরতির জন্য কঠোর শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আলোচনায় বসতে হলে ইউক্রেনকে দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছে মস্কো।
এর মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়ন করছে, যা যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ ও অনিশ্চিত এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। একদিকে অব্যাহত সামরিক হামলা, অন্যদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থা—দুইয়ের মাঝেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।