• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

বেইজিংয়ে শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ বলে প্রশংসা ট্রাম্পের

প্রতিবেদক / ১৭ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের শুরুতেই দেওয়া এই মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাম্প শি জিনপিংকে তার ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বৈঠককে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অতীতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও টেলিফোন কূটনীতির মাধ্যমে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা—অনেকে হয়তো এই কথা পছন্দ করেন না, কিন্তু সত্য এটাই। আমাদের সামনে একটি অসাধারণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”

এই সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাকেও সঙ্গে নিয়ে যান, যাদের মধ্যে রয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং টেসলার ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। মূল লক্ষ্য হিসেবে চীন থেকে কৃষিপণ্য ও যাত্রীবাহী বিমানের ক্রয় চুক্তি ত্বরান্বিত করা এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সংঘাত এড়াতে একটি স্থায়ী আলোচনামঞ্চ গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এমন সময়ে দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শি জিনপিং তার বক্তব্যে ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ ধারণার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, উদীয়মান শক্তি ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে সংঘাত এড়িয়ে নতুন সহযোগিতার মডেল তৈরি করা সম্ভব কি না। তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় এই বৈঠকের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে এবং মানবজাতির স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতা প্রয়োজন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাণিজ্যনীতি, তাইওয়ান ইস্যু এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রশ্নে বড় কোনো তাৎক্ষণিক অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত।

বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং ফেন্টানিল পাচার নিয়ন্ত্রণে চীনের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের অসন্তোষ আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শি জিনপিং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দুই দিনের এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা