আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পেট্রোলের ওপর আরোপিত ফেডারেল কর সাময়িকভাবে স্থগিতের উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলছে, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ ভোক্তাদের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
তাসনিম আন্তর্জাতিক ডেস্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার জানান, সরকার প্রতি গ্যালন পেট্রোলে ১৮ দশমিক ৪ সেন্ট এবং ডিজেল জ্বালানিতে ২৪ দশমিক ৪ সেন্ট ফেডারেল কর সাময়িকভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশটিতে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধিই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, জ্বালানি কর সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও পেট্রোলের চূড়ান্ত বাজারমূল্যে খুব বেশি প্রভাব নাও পড়তে পারে। বরং কর কমার কারণে চাহিদা বেড়ে গেলে মূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ফেডারেল জ্বালানি কর বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা স্বস্তি আনতে পারে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।