• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

আঞ্চলিক গ্যাস শক্তির কেন্দ্র হতে চায় ইরান, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

প্রতিবেদক / ৪৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতিতে “গ্যাস হাব” বা গ্যাসকেন্দ্র এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস হাব বলতে এমন একটি কেন্দ্রকে বোঝায় যেখানে একাধিক গ্যাস পরিবহন পথ এসে মিলিত হয় এবং সেখান থেকে গ্যাস কেনাবেচা, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক বাজার, যেখানে উৎপাদক ও ক্রেতারা একত্রিত হয়ে জ্বালানি লেনদেন সম্পন্ন করে।

মেহর সংবাদদাতার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা গ্যাস হাবগুলো শুধু জ্বালানি পরিবহনের কেন্দ্র নয়; বরং এগুলো মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস হাব বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস হাবকে অনেকটা বৃহৎ পাইকারি বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেমন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষকরা একটি কেন্দ্রে পণ্য নিয়ে আসে এবং সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য সংগ্রহ করে, ঠিক তেমনি গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোও একটি কেন্দ্রীয় স্থানে গ্যাস সরবরাহ করে এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তাদের চাহিদা পূরণ করে।

গ্যাস হাব গড়ে উঠলে একটি দেশ শুধু নিজেদের গ্যাস রপ্তানিই করতে পারে না, বরং অন্য দেশের গ্যাস পরিবহন করেও বিপুল অর্থ আয় করতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ট্রানজিট ব্যবস্থা বলা হয়। এর মাধ্যমে পাইপলাইন ব্যবহার বাবদ পরিবহন ফি আদায় করা সম্ভব হয়, যা সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।

এছাড়া গ্যাস হাব গড়ে তুলতে বিস্তৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, সংরক্ষণাগার, কম্প্রেসর স্টেশন এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন হয়। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগও বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাস হাবের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। যেসব দেশের বড় সংরক্ষণাগার ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে, তারা সংকটের সময় সংরক্ষিত গ্যাস ব্যবহার করে সরবরাহ সচল রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান আঞ্চলিক গ্যাসকেন্দ্র হওয়ার উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রাখে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসভান্ডার ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত। একই সঙ্গে দেশটি এমন একটি ভূ-অবস্থানে রয়েছে, যেখানে বড় উৎপাদনকারী ও ভোক্তা অঞ্চলগুলোর মধ্যে সহজ সংযোগ স্থাপন সম্ভব।

উত্তরে রাশিয়া ও তুর্কমেনিস্তানের মতো গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ এবং পশ্চিমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ বাজার—এই দুইয়ের মাঝে অবস্থান করায় ইরান জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে ইরান শুধু নিজস্ব গ্যাস রপ্তানিই নয়, বরং অন্যান্য দেশের গ্যাসও নিজেদের ভূখণ্ড দিয়ে পরিবহনের সুযোগ পাবে। এতে দেশটির ট্রানজিট আয় যেমন বাড়বে, তেমনি আঞ্চলিক জ্বালানি কূটনীতিতেও প্রভাব বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্বালানি পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ, তখন বহু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ইরানের অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিশাল গ্যাস মজুদ, অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান এবং জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা—এই তিনটি শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে ইরান বিশ্ব গ্যাস বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা