• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে চিনি রপ্তানিতে ভারতের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

প্রতিবেদক / ৩৪ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দেশের ভেতরে চিনি বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে চিনি রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। বুধবার (১৪ মে) প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। ঘোষণার পরপরই নিউইয়র্কে কাঁচা চিনির ফিউচার প্রায় ২ শতাংশের বেশি এবং লন্ডনে সাদা চিনির ফিউচার প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রপ্তানি স্থগিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে চিনির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং তারা এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বাড়াতে পারে।

এর আগে ভারত সরকার ১৫ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চিনি রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আখ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটির মোট উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো প্রভাবের কারণে অনিয়মিত বর্ষা ও খরার ঝুঁকি আখ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত রপ্তানি কোটা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৬ লাখ টনের বেশি ইতোমধ্যে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

তবে নতুন প্রজ্ঞাপনে কিছু নির্দিষ্ট রপ্তানি কার্যক্রমকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব চালানের লোডিং নিষেধাজ্ঞা জারির আগে শুরু হয়েছে, শিপিং বিল দাখিল করা হয়েছে, অথবা জাহাজ বন্দরে নোঙর করে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে—সেগুলো রপ্তানির আওতার বাইরে থাকবে। একইভাবে, যেসব চিনি কাস্টমস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

মুম্বাইভিত্তিক এক বাণিজ্য বিশ্লেষকের মতে, চলতি বছরের শুরুতে অতিরিক্ত রপ্তানি কোটা ঘোষণার পর বহু ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক অর্ডার গ্রহণ করেছিলেন। হঠাৎ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় তাদের জন্য চুক্তি বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, ভারতের এ সিদ্ধান্ত কেবল বৈশ্বিক চিনির বাজারেই নয়, বরং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা