স্পোর্টস ডেস্কঃ
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা-এর মৃত্যু ঘিরে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আদালতে এক চিকিৎসকের দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনা সম্ভব ছিল।
সান ইসিদ্রোর আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে চিকিৎসক মারিও শিটার জানান, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি প্রস্রাববর্ধক ওষুধ (ডাইউরেটিক) প্রয়োগ করা হলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল দ্রুত কমানো যেত। তাঁর ভাষায়, “মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তাঁর অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব ছিল।”
তিনি আরও বলেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে হার্ট ফেইলিউরের বহু রোগীর ক্ষেত্রেই এ ধরনের চিকিৎসা কার্যকর হয়। অনেক সময় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থার উন্নতি দেখা যায় এবং তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
এর আগে ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া আরেক বিশেষজ্ঞ কার্লোস ক্যাসিনেলি আদালতে জানান, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যাপকভাবে তরল জমে ছিল। তাঁর মতে, এই অবস্থার সৃষ্টি হঠাৎ হয়নি; বরং অন্তত এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের মতো সময় ধরে ধীরে ধীরে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এই তথ্য বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গভীর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে—চিকিৎসক ও তত্ত্বাবধায়ক দলের পর্যবেক্ষণে কি কোনো গুরুতর গাফিলতি ছিল?
বর্তমানে ম্যারাডোনার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এই বিচারপ্রক্রিয়া আগামী জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। পুরো বিষয়টি ঘিরে ফুটবল বিশ্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।