আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রী পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত, যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় হয়।
আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন জোট ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যে আগ্রাসী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা “গঠনমূলক ও ইতিবাচক” ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যখন কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষায়, প্রতিপক্ষের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। কিন্তু তারা সেই উদ্দেশ্যে সফল হয়নি। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে থাকে।
ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থনের প্রশংসা করে আরাগচি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে “যুদ্ধাপরাধী” বলেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, গাজায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নেতানিয়াহু সরকার দায়ী।
তার অভিযোগ, এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও ইসরায়েলি নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে পুরো অঞ্চলকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে তেহরান সফরের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন।
লামোলা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটের সমাধানে দক্ষিণ আফ্রিকা সবসময় সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনাভিত্তিক পথকেই সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সূত্র : তাসনিম নিউজ।