আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বন্দরমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এখন পর্যন্ত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আরও চারটি জাহাজকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অবরোধ কার্যকর রাখা এবং নিয়ম ভঙ্গ রোধ করতেই এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এই পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা চলে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল সীমিত করে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ালেও ইরানের বন্দরমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মার্কিন জ্বালানি খাতের একাধিক সূত্র আশা প্রকাশ করেছে, আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।