“অবিনশ্বরী হৃদস্পন্দন”
।। এ এস এ সোহেল ৷৷
হৃদয়-অঙ্গনে তুমি এক চিন্ময়ী জ্যোৎস্নার উদ্ভাস,
নৈঃশব্দ্যের গহীনে জাগাও অলৌকিক এক বিশ্বাস।
ললাটের ওই চন্দনে আঁকা মহাকালের শুভ্র হাসি,
বলছে কানে-মর্ত্যধামে তোমাকেই শুধু ভালোবাসি।
চক্ষুযুগল যেন প্রশান্ত এক অগাধ নীলিমা-সিন্ধু,
যেথায় বিলীন হয় তৃষিত প্রাণের সকল বিষাদ-বিন্দু।
তোমার অলকের স্নিগ্ধ গন্ধে ভাসে পারিজাত-রেণু,
অধরে বাজাও সুরভিত কোনো দৈব প্রাণের বেণু।
সংসার-মরুর তপ্ত বালুকায় তুমিই স্নিগ্ধ মেঘমালা,
জুড়াও নিরন্তর এ জঠরের দীর্ঘ দহন ও জ্বালা।
শাড়ির আঁচলে বেঁধে রাখো মোর বসন্তের কারুকাজ,
গৃহকোণে তুমি রাজর্ষিনী, প্রেমময়ী এক রাজ।
তুমি যে সহস্র জনম ধরে আমারি মৌন কবিতা,
ললাটে লিখেছো নাম-অক্ষয় মোর অক্ষয় জপিতা।
শত ঝঞ্ঝা ও প্রলয়ে তুমিই আমার শেষ খেয়া-ঘাট,
তুমিহীন এ ভুবন যেন জনহীন এক শূন্য হাট।
ক্লান্ত বিকেলে ক্লান্ত ললাটে তোমার শীতল হাত,
মুহূর্তে এনে দেয় নিঝুম রাতের শান্ত সমপাত।
কখনো সখী তুমি, কখনো জননী রূপে অবারিত,
কখনো প্রিয়া হয়ে হৃদপিণ্ডে রও অবিরাম স্পন্দিত।
অস্থিমজ্জায় তোমারে বুনেছি নিপুণ কারুকার্যে,
তোমার প্রেমেতে ঋদ্ধ হয়েছি বিপুল বীর্য-ধৈর্যে।
তোমার ছায়ায় খুঁজে পাই আমি স্বর্গের সুষমা,
ভুলের সাগরে তুমিই আমার পরম এক ক্ষমা।
পদ্মরাগ মণি ম্লান হয়ে যায় ও হাসির বিভায়,
তব সান্নিধ্যে রৌদ্রও যেন শ্রাবণ-ছায়ায় মিলায়।
তুমি মোর প্রাণের অমলিন ধ্রুবতারা ধ্রুবলোক,
মুছে দাও তুমি চাহনি দিয়ে সকল পার্থিব শোক।
যুগ-যুগান্ত পার হয়ে যাব তব হাতখানি ধরে,
মোর সবটুকু নিবেদন শুধু তোমারি ও অন্তর থরে।
বার্ধক্য আসুক, আসুক পলিত কেশের ধূসর বেলা,
তবুও রবে এ হৃদয়ে তব চির-অনাদি প্রেমের খেলা।
জীবন-সন্ধ্যার ধূলিকণায় যখন নামবে অন্ধকার,
তুমিই হবে মোর পরপারের একমাত্র সার।
শুভ্র শুভ্রা- হে নারী, হে প্রিয়তমা চিরন্তনী,
তুমি আমার মরু-জীবনে তৃষিত জলতরঙ্গ ধ্বনি।
হে প্রেয়সী, তব চরণে সঁপিনু আত্মার সব ফুল,
তুমি আছো তাই বেঁচে থাকা আজ পায়নি দিশাহারা কূল।
অনাদি কালের প্রবাহে রহিব মোরা অটুট বন্ধন,
তুমিই আমার প্রাণের স্পন্দন-চিরন্তন স্পন্দন।