• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এই বাজেট অধিক ঋণনির্ভর,উচ্চাভিলাষী অবাস্তবায়নযোগ্য এবং লুটপাটের : জামায়াত সালমান শাহ’র মাকে হুমকির অভিযোগ শিবা শানুর বিরুদ্ধে নিশোর ‘সুড়ঙ্গ ২’ আসছে বছরের শেষেই কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার যাচ্ছেন কাল মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত কানাডার সঙ্গে রাত ১টায় লড়বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা হাতিরঝিলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন কেন উইলিয়ামসন চাঁদপুর জেলায় সার্বিক মূল্যায়নে কচুয়া থানা শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে

কলিজায় অদৃশ্য সুতোর টান

প্রতিবেদক / ৪৯ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কলিজায় অদৃশ্য সুতোর টান
​খালিদ রিয়াজ 306

​নিশীথ রাতের স্তব্ধ চাদরে যখন ঘুমিয়ে পড়ে এই জান্ত্রিক নগরী,
হৃদয়কুটিরে একা বসে আমি তখনো স্মৃতির অতল দহন গুনি।
বুকের গহীনে আচমকা জাগে এক আদিম, অবাধ্য হাহাকার,
তোর নাম মনে পড়তেই ভেঙে যায় ধৈর্যের সব সীমাহীন প্রাচীর।

জীবনের সব চেনা হিসেব হয়তো চুকে গেছে মহাকালের নিয়মে,
তবু এই অবুঝ মন কেন যে মরে তোর ফেলে আসা মায়ার ফ্রেমে!
নিঝুম রাতে যখন একলা চেয়ে থাকি ওই দূর অনন্ত নক্ষত্র পানে,
তখনি এক অদৃশ্য সুতোর টান তীব্রতর হয়ে ওঠে পাজরে টানে
হৃদয়ের নিভৃত কোণে তখন ভাঙা কাঁচের মতোন বিঁধে থাকে ক্ষত,
তোর মায়ার বাঁধনে এই মন আজও রক্তাক্ত হয় অবিরত।

বাহির অবয়বে সবাই দেখে আমি বড্ড চঞ্চল, প্রফুল্ল এক প্রাণ,
কেউ তো বোঝে না গোপনে ক্ষয় হচ্ছে আমার এই রিক্ত দেহখান।
না দেখার পরেও প্রতিক্ষণ তোকে ছুঁতে চাওয়ার যে ব্যাকুল তৃষ্ণা,
এর চেয়ে তীব্র কোনো নীল বিষে তো কখনো নীল আর হবে না।

অম্বর জুড়ে যখন মেঘেরা শোনায় শ্রাবণের সেই কান্নার সুর,
আমার ভেতরের শূন্যতা তখন একলা উড়ায় কষ্টের একলা ঘুড়ি বহুদূর।
এই যে নিজেকে লুকিয়ে রেখে হাসির ছলে দিন পার করে দেওয়া,
আসলে তো তা শুধুই তোর স্মৃতি থেকে একটুখানি আড়াল চাওয়া।
তবু আড়াল কোথায়? মন তো মানে না কোনো অলিখিত বারণ,
তোর বিরহেই পুড়ে ছাই হতে চায় মনের এই নিভৃত কোন।

নদী কিংবা সমুদ্রের কূল মেলে, কিন্তু এ কষ্টের তো কোনো কুল নাই,
তোর মায়ার এই অদৃশ্য বাঁধন ছিঁড়ে পালাবার কোনো পথ তো খুজি নাই
একদম খাঁটি চলিত ভাষার তুলিতে আজ হৃদয়ের শেষ রক্তে ডায়েরি লিখি,
তোকে ছাড়া কীভাবে নিঃশ্বাস নিতে হয়, সেই কঠিন জ্যান্ত মরণটা রোজ শিখি।

যান্ত্রিক এই লোকালয়ে যখন একে একে নিভে যায় সব চেনা বাতি,
তখন তোর ফেলে আসা মায়াটুকুই হয় আমার দীর্ঘশ্বাসের একমাত্র সাথী।
তুই হয়তো খুব সুখে আছিস অন্য কারও সাজানো স্বপ্নের সংসারে,
আর আমার এই নিঃসঙ্গ মন ধুঁকে ধুঁকে মরে তোর স্মৃতির বালুচরে।
পড়লে মনে কথা কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠবেই আজ তাই
কারণ তোর ওই অদৃশ্য মায়ার টানের কাছে আমার যে আর কোনো রেহাই নাই।

ঊষার আলো ফুটলে আবার শুরু হবে ছদ্মবেশে বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই,
তবু তোকে ভোলার মতো কোনো শক্তি এই নশ্বর ধরাতে আমার জানা নাই
সুতোর ওপ্রান্তে তুই যেমনই থাকিস, এপ্রান্তে মায়ায় জড়িয়ে রইল আমার এ পরাণ।

তোর ওই চেনা হাসির মায়া এখনো এই নিভৃত বুকের ভেতর ডুকরে কান্দে,
বিধাতা কেন যে মানুষকে এমন কঠিন, অলক্ষ্য সুতোর ফাঁদে বান্ধে!
পথের বাঁকে থমকে দাঁড়িয়ে নীল আকাশ পানে যখন আকুল হয়ে তাকাই,
তোর সুবাসেই মনের ক্যানভাসে তোর নতুন এক চিরন্তন ছবি আঁকাই।

এই তো জীবন, এই তো খেলা, অমোঘ এক অদৃশ্য মায়ার বাঁধনে থাকা,
তোর মায়ায় বন্দী জীবনের ডায়েরি রইল আমার এই একলা হাতে লেখা।
এক্ষুনি সে যেন অবাধ্য মায়ায় বুকের শক্ত পাজরটা দিচ্ছে রে ছিঁড়ে,
কলিজাটা টেনে বের করে নিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির ওই অতলান্ত ভিঁড়ে।
আমি হাত বাড়িয়ে আটকাতে পারছি না, পারছি না ফেরাতে সেই হাত,
অসহায়ের মতো চেয়ে চেয়ে দেখি কীভাবে নিঃশব্দে ফুরিয়ে যায় চেনা দিনরাত।
তবুও সুতোর টানে বাঁধা এই কলিজা আমৃত্যু গাইবে শুধু তোরই গান।
তাতে যায় যদি যাক নিষ্ঠুর সমাজে
আমার কুলমান


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা