আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অচলাবস্থায় থাকা শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে আকস্মিক সফরে তেহরানে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। চলমান যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) দুই দিনের সরকারি সফরে তিনি ইরানের রাজধানীতে পৌঁছান বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। তেহরানে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে শুরু থেকেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। গত মাসে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নেয়। পরে ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বর্তমানে সেটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক বার্তায় আলোচনার প্রতি মার্কিন প্রশাসনের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরতিকে ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তার এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ওয়াশিংটনের উচিত তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণ করা। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।