আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযানে আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ও তীব্র হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক স্থাপনা, কৌশলগত অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আরও জানানো হয়, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো অভিযান চালিয়ে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। এখন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে ওয়াশিংটনও মনে করছে। ফলে আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।
তবে সম্প্রতি চীন সফর শেষে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি লিখিতভাবে আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এর আগে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ছিল—ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস