• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

কঙ্গো-উগান্ডায় ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচও’র

প্রতিবেদক / ৯ বার
আপডেট : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় বিরল প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার এবং কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি এখনই এ পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করেনি।

জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত ইবোলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কঙ্গোতে প্রাণহানি ও সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক সতর্কতার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ২৪৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮০ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই কঙ্গোর স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মংগওয়ালু ও রামপারা শহরের বাসিন্দা।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অন্তত ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ, ৮০টি সন্দেহভাজন মৃত্যু এবং আটটি ল্যাব-নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ইতোমধ্যে বুনিয়া, রওয়ামপারা ও মংগওয়ালু—এই তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুটি পৃথক ল্যাব-নিশ্চিত সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। আক্রান্ত দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। একই সময়ে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও একটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ অত্যন্ত সংক্রামক এবং এটি বমি, রক্ত, বীর্যসহ শরীরের বিভিন্ন তরলের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। রোগটি বিরল হলেও অত্যন্ত প্রাণঘাতী বলে বিবেচিত হয়।

আফ্রিকা সিডিসি সতর্ক করেছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে এখন ‘সক্রিয় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ চলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত স্ক্রিনিং, আইসোলেশন এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ড. জ্যঁ কাসেয়া জানান, প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ব্যস্ত খনিশিল্প এলাকা মংগওয়ালুতে। পরে রোগীরা চিকিৎসার জন্য অন্য এলাকায় যাওয়ার সময় সংক্রমণ রওয়ামপারা ও বুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “মংগওয়ালুতে এখনো বহু সক্রিয় কেস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।”

তিনি আরও জানান, ইতুরি অঞ্চলের নিরাপত্তাহীন পরিবেশ রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক স্টেট-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিআর কঙ্গো অতীতেও ইবোলা মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও বিশাল ভৌগোলিক বিস্তার, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দ্রুত চিকিৎসা ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা