আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা তদারকির জন্য ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গালিবাফকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তা অনুমোদন করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সমন্বয়ের দায়িত্ব এখন গালিবাফের হাতে যাচ্ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, এর আগে প্রয়াত নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলি লারিজানি এই দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ২০২১ সালে ইরান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তির অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।
তবে মূল প্রতিবেদনে লারিজানিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আলি লারিজানি জীবিত আছেন এবং এখনো ইরানের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে ওই দাবিটি যাচাইযোগ্য নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফকে এ দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও কৌশলগত উচ্চতায় নিতে চাইছে তেহরান। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বেইজিং এখন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ইরান-চীন ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তিতে জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পশ্চিমা চাপ মোকাবিলায় এই চুক্তিকে তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও গালিবাফের রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বর্তমানে ইরান একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার নীতি অনুসরণ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে গালিবাফের নতুন দায়িত্বকে তেহরানের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।