আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা আইএসওয়াপের শীর্ষ নেতা আবু বিলাল আল-মিনুকিকে হত্যার অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা সরাসরি অংশ নেয়নি বলে দাবি করেছে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী। দেশটির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও কারিগরি সহায়তা দিলেও স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে শুধুমাত্র নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী।
নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএএনের বরাতে ডিফেন্স মিডিয়া অপারেশনের পরিচালক মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, “এটি ছিল নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে, তবে তাদের সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি।”
এর আগে গত ১৬ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই জঙ্গি নেতাকে “বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের একজন” বলেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযানটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো অঙ্গরাজ্যের মেতেলে এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই আইএসওয়াপের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালেও আল-মিনুকির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরে সেটি ভুল প্রমাণিত হয়। কারণ তিনি একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং পরিচয় গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সর্বশেষ অভিযানের পর গোয়েন্দা যাচাই শেষে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নাইজেরিয়া।
আবু বিলাল আল-মিনুকিকে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, তিনি আইএসওয়াপের অর্থায়ন, বিস্ফোরক সরবরাহ, সদস্য সংগ্রহ, প্রচারণা এবং বিভিন্ন হামলার সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
আইএসওয়াপ মূলত বোকো হারাম থেকে বিচ্ছিন্ন একটি জঙ্গি গোষ্ঠী, যা পশ্চিম আফ্রিকায় আইএসের সহযোগী সংগঠন হিসেবে সক্রিয়। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়াও নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুন সীমান্তবর্তী এলাকাতেও তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি সামরিক ঘাঁটি, গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএসওয়াপের সহিংসতায় অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাত দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মানবিক সংকট আরও তীব্র করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-মিনুকির মৃত্যু আইএসওয়াপের জন্য বড় ধাক্কা হলেও সংগঠনটির নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ফলে জঙ্গিবাদ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।