আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগো শহরে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন কিশোরসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে সংঘটিত এ ঘটনায় মসজিদের বাইরে তিন মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই কিশোরকে একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহত দুই কিশোরের বয়স ১৭ ও ১৯ বছর।
সান দিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, মসজিদসংলগ্ন দিবাকালীন বিদ্যালয়ে থাকা সব শিশু নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগো এলাকাটির অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করলেও হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা ও বার্ষিক হজের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মসজিদের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসানে সাংবাদিকদের বলেন, এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি তারা আগে কখনো হননি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের বাইরে গুলিবিদ্ধ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত নিরাপত্তারক্ষী আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, একই সময়ে মসজিদ থেকে কয়েকটি সড়ক দূরে এক উদ্যানকর্মীর দিকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা দৃশ্যে দেখা গেছে, পুরো মসজিদ এলাকা ঘিরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সশস্ত্র সদস্যদের ছাদ ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও পুরো অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।
উল্লেখ্য, ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টারে ‘ব্রাইট হরাইজন একাডেমি’ নামে একটি ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিচালিত হয়।
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর আগে মার্চ মাসে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি ইহুদি উপাসনালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।