আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে পাকিস্তানের প্রথম আরএমবি-মূল্যের পান্ডা বন্ড ইস্যুতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য শুধু পাকিস্তানের জন্য নতুন অর্থায়নের দুয়ারই খুলে দেয়নি, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বেইজিং-ইসলামাবাদ আর্থিক সম্পর্কের গভীরতাও স্পষ্ট করেছে।
গত ১৪ মে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো চীনের অভ্যন্তরীণ আরএমবি বন্ড বাজারে পান্ডা বন্ডের হিসাবরক্ষণ ও ইস্যু কার্যক্রম সম্পন্ন করে। প্রাথমিকভাবে ১৭৫ কোটি ইউয়ান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে বন্ডটি ৮৮৩ কোটির বেশি ইউয়ানের সাবস্ক্রিপশন পায়। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি সাড়া মেলে।
এই বন্ড ইস্যুকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি যেমন চীনের অভ্যন্তরীণ আরএমবি বন্ড বাজারে পাকিস্তানের প্রথম প্রবেশ, তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের প্রথম পান্ডা বন্ড ইস্যুও বটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন এক সময়ে এই সাফল্য এসেছে, যখন বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ পশ্চিমা অর্থায়ন কাঠামোর বিকল্প খুঁজছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের পুঁজিবাজার নতুন বৈশ্বিক অর্থায়ন কেন্দ্র হিসেবে ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডের চূড়ান্ত কুপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র আড়াই শতাংশ, যা বর্তমান বৈশ্বিক ঋণবাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায়, আন্তঃসীমান্ত অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি সার্বভৌম বন্ডের জন্য এত শক্তিশালী বিনিয়োগ চাহিদা খুবই বিরল ঘটনা।
এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এই বন্ডের মূলধন ও সুদ পরিশোধের ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টি দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে চীনের রেটিং সংস্থাগুলো এই বন্ডকে সর্বোচ্চ ‘এএএ’ মান নির্ধারণ করেছে।
পান্ডা বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ পাকিস্তানের অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ও রাষ্ট্রদূত খলিল হাশমি এই বন্ড ইস্যুকে কেবল অর্থায়নের উদ্যোগ নয়, বরং দুই দেশের ‘সর্বকালীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সফল বন্ড বিক্রি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পশ্চিমা মুদ্রা ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক থাকলেও এখন অনেক দেশ বিকল্প হিসেবে ইউয়ানভিত্তিক সম্পদ ও চীনা পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকছে।
তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে চীনের আর্থিক বাজার ধীরে ধীরে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।