আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের শীর্ষ ধনকুবের ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি ও দুর্নীতির সব ফৌজদারি অভিযোগ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)।
এর ফলে নিউইয়র্কের একটি আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বহুল আলোচিত সিকিউরিটিজ ও ওয়্যার ফ্রড মামলাটির পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি ঘটল।
সোমবার মার্কিন প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, মামলাটি টিকিয়ে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযোগগুলো আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে আদালত মামলাটি ‘উইথ প্রেজুডিস’ হিসেবে খারিজ করে দেয়, যার অর্থ ভবিষ্যতে একই অভিযোগে পুনরায় মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে না।
গত সপ্তাহে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আলাদা একটি দেওয়ানি অভিযোগও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে। সেখানে কোনো অপরাধ স্বীকার না করেই গৌতম আদানি ৬০ লাখ ডলার এবং সাগর আদানি ১ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধে সম্মত হন।
এছাড়া ইরান থেকে এলপিজি আমদানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগেও আলাদা আরেকটি তদন্ত অর্থনৈতিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে শেষ হয় বলে জানা গেছে।
মামলাটি প্রথমে ২০২৪ সালের শেষ দিকে দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগ করা হয়—ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে ঘুষ প্রদান এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের তথ্য গোপনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তবে আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, মামলাটি আইনগতভাবে ভিত্তিহীন এবং ভারতের ভূখণ্ডে সংঘটিত ঘটনায় মার্কিন আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ পর্যালোচনার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে আসে যে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই, ফলে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বড় ধরনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল, যা তার আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।