আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এক নতুন প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য-এ রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে বুথিডংয়ের হইয়ার সিরি গ্রামে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি অন্তত ১৭০ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। আহত হন আরও শত শত মানুষ।
প্রতিবেদনে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। ওমর আহমদ নামে এক রোহিঙ্গা জানান, কয়েক মাস পর গ্রামে ফিরে গিয়ে তিনি ধানক্ষেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষের কঙ্কাল ও খুলি দেখতে পান। তার ভাষ্য, নিহতদের অনেকের পোশাক তখনও অক্ষত ছিল।
এইচআরডব্লিউ বলছে, ২০২৪ সালের ২ মে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সাদা পতাকা হাতে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে গ্রাম ছাড়ার সময় চারদিক থেকে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কোনো সতর্কতা ছাড়াই নারী-শিশুসহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অনেকে ধানক্ষেত, মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিলেও সেখানেও হামলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটি ৪১ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট চিত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিও বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর গ্রামটি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেটি প্রায় বসবাসের অনুপযোগী।
এদিকে আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এইচআরডব্লিউ বলছে, পরিকল্পিত হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল।
বর্তমানে বহু রোহিঙ্গা কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির-এ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা আন্তর্জাতিক বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সংস্থাটি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের আসন্ন অধিবেশনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।