আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। ইরান ও রাশিয়ার তেলের ওপর মার্কিন প্রশাসনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণার মধ্যেই বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ১১০ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর দাম কিছুটা কমলেও ইউরোপীয় বাজার চালু হওয়ার পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাবও বিশ্ব শেয়ারবাজারে পড়েছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ এবং সেলসফোর্সের শেয়ারের দাম চলতি বছরে যথাক্রমে ৩০ ও ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
এদিকে ইরানের পরমাণু চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে। ওয়াশিংটন প্রস্তাবিত নতুন খসড়ায় আলোচনাকালীন সময়ে ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাঝসমুদ্রে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল খালাসের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, জ্বালানি সংকটে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন দেশগুলো এই সুবিধার আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।