লিয়াকত হোসেন রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানা এলাকায় অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ‘ব্লু-লেস’ হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি ও ব্যাটারি খোলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৩ মে সকাল ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দামকুড়া থানার জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকার রাস্তার পাশ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. বাবুল (৬০) বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে।
তদন্তে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মামুনুর রশিদকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহ্ আলী মিয়া ও তার দল গত ১৫ মে প্রথমে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
একই দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—মহানগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম পূর্বপাড়ার মো. তানভীর রানা প্রান্ত (২২), লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়ার মো. শামীম (৩৫), আলীগঞ্জ পূর্ব মোল্লাপাড়ার মো. রাব্বি (২০) এবং ভাটাপাড়ার মো. নূর আলম (২৫)।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
তাঁরা হলেন—কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়ার ওমর ফারুক ওরফে বাবু (৪৩), রাজপাড়া থানার সুতাহাটির মো. সেলিম (৩৫), মতিহার থানার মাসকাটাদিঘির মো. সুজন (৩৬) এবং বোয়ালিয়া থানার খরিবোনার রাহেনুল হক (৪৫)। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
আরএমপি ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।