নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী চঞ্চল হালদার নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
বুধবার সকালে উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের সিংগাচুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে রাজলক্ষ্মী পূরবীর সঙ্গে সিংগাচুড়া গ্রামের চঞ্চল হালদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, বিদেশ যাওয়ার কথা বলে সম্প্রতি স্ত্রীর বাবার কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেন চঞ্চল হালদার। টাকা না পেয়ে মঙ্গলবার পূরবীকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। দরিদ্র বাবা অর্থ জোগাড়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল বলেন, টাকার জন্য মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। মেয়ের জামাইকে টাকা দিতে দিতে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে না পারায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত চঞ্চল হালদারের মা লক্ষ্মী রানী অবশ্য দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে পূরবী আত্মহত্যা করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসান জানান, গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল বাসার বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।