আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বৈশ্বিক ভূরাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠক নতুন আন্তর্জাতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কয়েকদিনের মধ্যেই হওয়া এই বৈঠকে এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়া।
বুধবারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই নেতা বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তারা বিশ্বে একক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও বেইজিং ও মস্কো একসঙ্গে কঠোর অবস্থান নেয়। ইরান ও গাজায় মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে শি ও পুতিন বলেন, এসব পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে তারা গাজায় অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ একই সুরে কথা বলেছে। উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং একতরফা পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করার পাশাপাশি জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা।
এছাড়া লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন ও রাশিয়া সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ সম্মেলন শুধু চীন-রাশিয়ার কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে নতুন শক্তি ভারসাম্য গড়ে তোলারও ইঙ্গিত বহন করছে।