আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত শীর্ষ বৈঠকের পরপরই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই চারটি মার্কিন জাহাজ চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ায় এটিকে দুই দেশের জ্বালানি ও বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এলএসইজি’র (LSEG) শিপিং ডাটার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে সম্প্রতি জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করেছে। আগামী জুনের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো চীনের তিয়ানজিন বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা শুরু হয়। সেই বিরোধের জেরে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি চীনে কোনো এলএনজি রপ্তানি হয়নি। যদিও দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ চুক্তি কার্যকর ছিল, তবুও বাজার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীনা ক্রেতারা অনেক সময় তাদের বরাদ্দ এলএনজি অন্য দেশে বিক্রি করে দিচ্ছিল।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনা কোম্পানিগুলো পুনর্বিক্রয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, গত ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেনিয়ার এনার্জির ‘সাবিন পাস’ রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ‘উম্ম আল হানায়া’ নামের একটি জাহাজ যাত্রা শুরু করে। এরপর ৮ মে ভেঞ্চার গ্লোবালের ‘প্লাকুয়িমিন্স’ প্ল্যান্ট থেকে ‘আল সাইনিয়া’ ও ‘ইদ আসাহ’ নামের আরও দুটি জাহাজ রওনা দেয়। সব মিলিয়ে চারটি এলএনজি জাহাজ জুনের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে চীনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরপরই এই জ্বালানি চালান শুরু হওয়া কেবল বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও চীন বর্তমানে রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তুলনামূলক কম দামে গ্যাস আমদানিতে বেশি আগ্রহী, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই এলএনজি আমদানিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।