আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
গাজামুখী আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর থেকে আটক হওয়া মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নির্যাতন ও অপমানের ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছে জার্মানি, বেলজিয়াম, তুরস্ক ও কানাডা।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ত্রাণবহরটি আটকে দেওয়ার পর আটক কর্মীদের হাত বেঁধে লাঞ্ছিত করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত স্টিফেন সেইবার্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট বলেন, বন্দিদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা গভীর উদ্বেগজনক। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেলজিয়ামের নাগরিকও রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলের পদক্ষেপকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের আচরণকে বর্বর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আটক তুর্কি নাগরিকসহ ত্রাণবহরের অন্য সদস্যদের নিরাপদ মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথাও জানিয়েছে আঙ্কারা।
অন্যদিকে, গাজাগামী ত্রাণবহরের বেসামরিক কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে কানাডা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা।
ত্রাণবহরের কর্মীরা আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানাতে এবং চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাচ্ছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।