আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন সুরক্ষাবলয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অত্যন্ত গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা বা ‹সাইফার› থেকে জানা গেছে, ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে পারমাণবিক রহস্যের নিরাপত্তা নিয়েও পর্দার আড়ালে গভীর ভূ-রাজনৈতিক খেলা চলছিল।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পতনের পেছনে ওয়াশিংটনের একটি সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল। ফাঁস হওয়া এই নথিতে দেখা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে।
অন্যদিকে, তিনি অপসারিত হলে পাকিস্তানকে সব ধরনের সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, কেবল ইউক্রেন যুদ্ধ বা রাশিয়ার সাথে ইমরান খানের সুসম্পর্কই আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ ছিল না, বরং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু গোপন অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়েও পশ্চিমা বিশ্বের গভীর উদ্বেগ ছিল।
ইমরান খানের জাতীয়তাবাদী অবস্থান এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে তার নাটকীয় ক্ষমতাচ্যুতির মাধ্যমে। এই গোপন সাইফার ফাঁসের ঘটনাটি পাকিস্তানের সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট এবং তৎকালীন ইমরান সরকারের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নথি প্রমাণ করে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর হস্তক্ষেপ কতটা গভীর হতে পারে।