আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের নেফুদ মরুভূমিতে প্রায় ১২ হাজার বছরের পুরোনো শিলাচিত্রের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক এই অঞ্চলের খাড়া পাথরের গায়ে খোদাই করা চিত্রগুলো প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক হারিয়ে যাওয়া মানব সভ্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নেফুদ মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত জেবেল আরনান, জেবেল মলেইহা ও জেবেল মিসমা—এই তিন এলাকায় ৬০টিরও বেশি খাড়া পাথরে খোদাই করা চিত্রের সন্ধান মিলেছে। কোনো কোনো পাথরে একাধিক চিত্র একসঙ্গে খোদাই করা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭৬টি প্রাচীন শিলাচিত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় উঁচু ঢালে থাকা চিত্রগুলোর ছবি সংগ্রহ করেছেন গবেষকেরা। এসব শিলাচিত্রে উট, ঘোড়াজাতীয় প্রাণী এবং মানুষের অবয়ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা দেখা গেছে। এর আগে এই মরুভূমিতে নব্যপ্রস্তর যুগের প্রায় আট হাজার বছরের পুরোনো কিছু শিলাচিত্র পাওয়া গেলেও নতুন আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলো আরও অনেক প্রাচীন বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষকদের ধারণা, এসব চিত্র ১১ হাজার ৪০০ থেকে ১২ হাজার ৮০০ বছর আগের এবং বিভিন্ন সময়ে খোদাই করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ হাজার থেকে ২৬ হাজার বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল। সেই হিমশীতল সময়ে নেফুদ মরুভূমিতে মানুষের অস্তিত্বের কোনো হাড়গোড় বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এতদিন পাওয়া যায়নি। ফলে এই দীর্ঘ সময়কে ইতিহাসের এক ‘অন্ধকার সময়কাল’ হিসেবে ধরা হতো।
নতুন আবিষ্কৃত এই শিলাচিত্রগুলো সেই দীর্ঘ শূন্যতা পূরণ করে প্রাচীন মানব উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাজির করেছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।