আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রণীত একটি নতুন আইনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই আইনের ফলে দেশটিতে বাল্যবিবাহ আরও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং নারীদের অধিকার আরও সীমিত হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ঘটে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অল্প বয়সে বিয়ের প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
একাধিক অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেক পরিবার অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য অংশই ১৮ বছরের নিচে।
নতুন আইনের কিছু বিধান নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো নারী যদি পরে জানান যে তাঁর অমতে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবুও স্বামীর সম্মতি ছাড়া তিনি তালাক নিতে পারবেন না। পাশাপাশি স্বামীর অনুপস্থিতি বা ভরণপোষণে ব্যর্থতার মতো কারণেও একতরফা তালাকের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
এই বিধানগুলোকে কেন্দ্র করে কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী অধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, এই আইন নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সুযোগ সংকুচিত করবে।
এক নারী অধিকারকর্মী মন্তব্য করে বলেন, এই আইন নারীদের স্বাধীনতাকে ধাপে ধাপে সীমিত করার একটি প্রক্রিয়ার অংশ, যা সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)ও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, নতুন আইন আফগান নারীদের অধিকারকে আরও দুর্বল করবে এবং বৈষম্যকে গভীরতর করবে।
তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ইসলামি আইন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে করা সমালোচনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহের শিকার অনেক মেয়ে পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুও দেশটির নারী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন আইন আফগান সমাজে বিদ্যমান পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং নারীদের আইনি সুরক্ষাকে আরও সংকুচিত করবে।