• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

সুদানের আকাশে ড্রোন বনাম রাফাল: বদলে যাচ্ছে কি ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশল?

প্রতিবেদক / ৩১ বার
আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সুদানের আকাশসীমায় এক চাঞ্চল্যকর সামরিক ঘটনার দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষকের দাবি, তুরস্কের তৈরি একটি যুদ্ধ ড্রোন অত্যাধুনিক ফরাসি ‘রাফাল’ ফাইটার জেটকে ভূপাতিত করেছে। যদিও এ ঘটনার সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও এটি ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের ধারণা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের আকাশে একটি ‘বায়রাক্তার আকিনজি’ ড্রোন থেকে রোকেটসান কোম্পানির তৈরি ‘এরেন’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে একটি রাফাল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে একটি আকাশযানকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভূপাতিত হতে দেখা গেছে। তবে সেটি রাফাল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সুদানের গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ব্যবহৃত একটি যুদ্ধবিমানকে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে সুদান সরকারি বাহিনীর হয়ে তুর্কি প্রযুক্তির ‘আকিনজি’ ড্রোন ব্যবহারের কথাও আলোচনায় এসেছে।

যে ‘এরেন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হচ্ছে, সেটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমর্থিত উচ্চগতির একটি এয়ার-টু-এয়ার অস্ত্র। প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে উন্নত ইনফ্রারেড গাইডেড প্রযুক্তি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই একটি তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে থাকে, তবে এটি হবে আকাশযুদ্ধের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এতদিন ধারণা ছিল, চালকবাহী ফাইটার জেটের বিপরীতে ড্রোনের টিকে থাকা কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘কস্ট-টু-কিল অ্যাসিমেট্রি’। অর্থাৎ তুলনামূলক সস্তা একটি ড্রোন প্রযুক্তি যদি শত মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে তাদের সামরিক ব্যয় ও যুদ্ধ কৌশল নতুন করে ভাবতে হবে।

তবে এ দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মান নিম্নমানের হওয়ায় ধ্বংস হওয়া বিমানটির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সুদানে রাফাল মোতায়েনের বিষয়েও কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারোক্তি দেয়নি।

তবুও বিশ্লেষকদের মতে, সুদান এখন আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ প্রযুক্তির পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। তুরস্ক, ইরান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সেখানে সরাসরি সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। আর এই বাস্তবতা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা