আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের উত্তরাখণ্ডে আসন্ন ঈদুল আজহা ও চলমান চারধাম যাত্রাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে কোনোভাবেই জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
বিশেষ করে রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি।
শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে ধামি বলেন, চারধাম যাত্রায় লাখ লাখ তীর্থযাত্রী উত্তরাখণ্ডে আসছেন। এ সময় পুরো রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, “রাস্তা মানুষের চলাচলের জন্য। ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্ধারিত স্থানেই হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, ঈদের নামাজসহ সব ধর্মীয় কার্যক্রম মসজিদ, ঈদগাহ কিংবা নির্ধারিত স্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোথাও জনচলাচল বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
চারধাম যাত্রা হলো হিমালয় অঞ্চলের চারটি পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান—যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ—কেন্দ্রিক বার্ষিক তীর্থযাত্রা। প্রতি বছর লাখো ভক্ত এতে অংশ নেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাম্প্রতিক অনুরূপ মন্তব্যের পরই ধামির এ বক্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে খোলা স্থানে মুসলমানদের ঈদের নামাজ পড়ার বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প্রচারণাও জোরদার হয়েছে।
ধামির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মুসলিম আলেম মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরেলভী।
তিনি বলেন, মুসলমানরা সাধারণত রাস্তায় নামাজ আদায় করেন না। কেবল চরম বাধ্যবাধকতার পরিস্থিতিতেই এমন ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে সংখ্যাগরিষ্ঠদের খুশি করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও সরব হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন দাবি করেন, খোলা স্থানে গণনামাজের কারণে ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, মুসলিম ধর্মীয় আয়োজনকে লক্ষ্য করেই এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রা, তীর্থযাত্রা ও বিভিন্ন উৎসবে রাস্তা দখল ও জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও সেসব বিষয়ে একই ধরনের কঠোর অবস্থান দেখা যায় না।