• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

রাষ্ট্রীয় পরিবহনে উদাসীনতা ও সংকট: বেসরকারি নৌ-সড়কে জিম্মি বরিশালমুখী ঈদযাত্রী

প্রতিবেদক / ৩৬ বার
আপডেট : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

​আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। তবে দুঃসহ গরম আর কালবৈশাখীর আশঙ্কার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় নিরাপদ স্টিমার সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ থাকা এবং সরকারি বাস সার্ভিসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ফলে বরিশালসহ পুরো অঞ্চলের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এখন বেসরকারি নৌযান ও সড়ক পরিবহনের ওপর একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদুল আজহার আগে-পরে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বরিশালসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করবেন, যার ৮০ শতাংশ নৌপথে এবং ২০ শতাংশ সড়কপথে চলাচল করবেন। এমন বিশাল চাহিদার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় নৌ পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি ও সড়ক পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বিশেষ কোনো সেবা দিতে পারছে না। বাংলাদেশ বিমান ২৫ ও ৩১ মে এবং ১ জুন মাত্র তিনটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেই দায়িত্ব শেষ করছে।

​বিআইডব্লিউটিসির বহরে এখনো ৪টি ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল জাহাজসহ ৪টি স্ক্রু-হুইল যাত্রীবাহী নৌযান সচল রয়েছে। এছাড়া বিগত দুই দশকে সরকারি শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌযান সংগ্রহ করা হলেও, সেগুলোর একটিও এই ঈদে জনগণের সেবায় নামানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি টাকায় কেনা এসব নৌযান ব্যক্তি মালিকানায় ইজারা দেওয়াকেই মূল কাজ বানিয়ে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

​অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) অন্যতম লাভজনক বরিশাল বাস ডিপোটি সচল বাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। বিগত ঈদুল ফিতরে এই ডিপোটি ১৭৯টি ট্রিপে প্রায় ১৭ হাজার যাত্রী পরিবহন করে ৭৫ লাখ টাকা আয় করলেও, এবার সদর দপ্তর থেকে বাড়তি কোনো বাস বরাদ্দ মেলেনি।

​সরকারি খাতের এই চরম শূন্যতার সুযোগে ঢাকা-বরিশাল রুটে বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। রোববার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অন্তত ৩০টি বেসরকারি নৌযান সোমবার সকালে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু বরিশাল বন্দরেই ১২টি বিশালাকার লঞ্চ ভোর নাগাদ প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পুনরায় যাত্রী নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল জনস্রোত সামাল দিতে ঈদের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত ১৫টি বেসরকারি নৌযান ডাবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করবে।​যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ না থাকায়, ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে—তা নিয়ে এখন থেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা