আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ও পশ্চিম সীমান্ত নীতিতে নতুন কৌশলের আভাস দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত সফরে যাচ্ছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী এক মাসজুড়ে তিনি দুই দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অগ্রবর্তী এলাকা পরিদর্শন করবেন। ভারত সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের উদ্দেশ্য ‘মেগা নিরাপত্তা পর্যালোচনা’ এবং সীমান্তে আধুনিক ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরের প্রথম ধাপে অমিত শাহ সোমবার গভীর রাতে রাজস্থানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বিকানেরে পৌঁছাবেন। সেখানে বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মঙ্গলবার সীমান্তের প্রত্যন্ত ‘সাঞ্চু’ পোস্টে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন তিনি। একই সঙ্গে নারী সীমান্তরক্ষীদের জন্য নির্মিত একটি ব্যারাকের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করবেন।
এদিন বিকেলে রাজ্য প্রশাসন ও সীমান্তবর্তী পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে তার। পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের বিস্তারের বিষয়টি এই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
এরপর ২৯ মে গুজরাটের ভুজ অঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বিতর্কিত জলাভূমি ‘হারামি নালা’ পরিদর্শনে যাবেন ভারতের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অতীতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি।পাকিস্তান সীমান্ত সফরের পর অমিত শাহের নজর ঘুরবে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। আগামী ৫ জুন তিনি ত্রিপুরা সফরে গিয়ে বাংলাদেশ সংলগ্ন ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি ঘটতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সফরে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ থেকে ‘অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আসা বিজেপি এখন সীমান্তে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর অমিত শাহের এই সীমান্ত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্তে পশু পাচার, মানব পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নামে নতুন কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পরই ‘শনাক্তকরণ, বাদ দেওয়া ও নির্বাসন’ নীতির কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি জেলার প্রশাসনকে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দেওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, অমিত শাহের এই নিরাপত্তা পর্যালোচনার আড়ালে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের তৎপরতা ও কঠোরতা আরও বাড়তে পারে, যা দুই দেশের সীমান্ত কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।