আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পবিত্র মক্কায় ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। হাজিদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (গাকা)।
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগমে মুখরিত হজের পবিত্র স্থানগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিশেষ ড্রোন সেবা পরিচালনা করবে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘টেরা ড্রোন অ্যারাবিয়া’। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর মেহমানদের আরও উন্নত সেবা দিতেই সৌদি সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ।
হজের সময় বিপুল জনসমাগমের কারণে সড়কপথে যানজট ও ভিড় প্রায়ই জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বাধা সৃষ্টি করে। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই আকাশপথভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করেই এই সেবা পরিচালিত হবে। এর ফলে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তবে হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বছরের হজ মৌসুমে পবিত্র স্থানগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন পরিচালনা করা হয়েছিল এবং তা সফল হওয়ায় এবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হজের ইতিহাসে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থা এবারই প্রথম।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবার উন্নয়নই নয়, বরং সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় এভিয়েশন কর্মসূচির আওতায় বিমান চলাচল ও প্রযুক্তি খাতকে আরও আধুনিক ও উদ্ভাবনী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিফলন এটি।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির এই অভিনব ব্যবহার ২০২৬ সালের হজকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও সেবাবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।