ডেক্স রিপোর্ট:-
কবি, গল্পকার, গীতিকার, প্রাবন্ধিক,সংগঠক ও সাংবাদিক আলমগীর কবীর হৃদয়-এর ৪৮তম জন্মদিন আজ, ১ জুন ২০২৬ সোমবার। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার বহুমাত্রিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই লেখক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৮ সালের ১ জুন, পাবনা জেলা সদরের কৃষ্ণপুর মহল্লায়। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক ও মাতা আলহাজ্ব মোছাঃ হামিদা বেগম। পারিবারিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা আলমগীর কবীর হৃদয় ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তাঁর প্রথম কবিতা “বিপ্লবী কণ্ঠে” প্রকাশিত হয় মানিক মজুমদার সম্পাদিত ‘খোলাচোখ’ পত্রিকায়। সেই শুরু, এরপর আর থেমে থাকেননি তিনি।
বর্তমানে তিনি পাবনার অন্যতম সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন “উত্তরণ পাবনা”-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত উত্তরণ পাবনা দেশের বিভিন্ন জেলায় ও ভারতে ২ টি জেলাতে শাখা সংগঠন তৈরি করে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চায় অবদান রেখে চলেছে।পাশাপাশি তিনি ওয়ার্ল্ড গ্রীণ ক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিস্তারে তাঁর রয়েছে বহুমুখী সম্পৃক্ততা। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পাবনার যুগ্ম সম্পাদক, কবি সংসদ বাংলাদেশ ঢাকার রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রতিভা’-র উপদেষ্টা এবং ‘হিজল পাখির গান’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ‘উত্তরণ কণ্ঠ’, ‘সেতুবন্ধন’ ও ‘জলসিড়ি’-র সম্পাদক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।
সাংবাদিকতাতেও রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল পদচারণা। তিনি একসময় ডেইলি ফিনানশিয়াল পোস্ট ও ঢাকা রিপোর্ট -এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সাপ্তাহিক ‘বাঁশপত্র’-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশ নিউজ টুডে,যমুনা প্রতিদিন,দৈনিক টেন স্টার বিডি টুয়েন্টি ফোর এবং এসএমপি নিউজ-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সংগীত ও আবৃত্তিতেও তাঁর রয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। তাঁর একক গীতিকার হিসেবে আধুনিক গানের সিডি “ফিরে দেখা” প্রকাশিত হয়েছে গানচিল, ঢাকা থেকে। এছাড়া “তুমিহীন” নামে তাঁর কবিতার ক্যাসেটও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি লেখক ও আবৃত্তিকার—দুই ভূমিকাতেই ছিলেন। কবির স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাহিত্য আসর অনুষ্ঠানে একাধিকবার প্রচার হয়েছে যা এখনো চলমান এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে প্রচারিত ছন্দিত নন্দিত অনুষ্ঠানে একাধিকবার তার কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি প্রচার হয়েছে।
প্রকাশনা জগতেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি; তিনি ‘উত্তরণ প্রকাশনী’-র প্রকাশক।
আলমগীর কবীর হৃদয়ের সাহিত্যকর্মে যেমন প্রতিবাদী উচ্চারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও সমাজবাস্তবতার গভীর অনুরণন। তাঁর প্রিয় কবিদের মধ্যে রয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং নির্মলেন্দু গুণ। ভ্রমণ, লেখালেখি, সামাজিকতা ও জীবনদর্শনের নানা দিক তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে সমৃদ্ধ করেছে।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— প্রশ্ন তোমার কাছে, ভাঙা গণতন্ত্র বিধ্বস্ত প্রেম, নিষিদ্ধ সংলাপ, মন আকাশে বেদনার মেঘ, অপূর্ব আমি ও বন্ধু, একুশের বুকে প্রেম, প্রত্যাশিত মরীচিকা ও দূরত্বের মুহূর্ত।
লেখক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে তিনি স্মরণ করেন ২০১৯ সালের ১৬-১৭ জুলাই ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ অনুষ্ঠিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বি-শতবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সেমিনারে টেকনিক্যাল সেশন-২-এ স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণকে।
সাহিত্য ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন বহু সম্মাননা ও পদক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— মাদার তেরেসা স্বর্ণ পদক (ভারত), জাতীয় মানবাধিকার কনভেনশন-২০১৪ গোল্ড মেডেল, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সাহিত্য পদক, পল্লীকবি জসীমউদ্দিন রৌপ্য পদক, কবি শামসুর রাহমান সাহিত্য পদক, নজরুল সম্মাননা পদক, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য সম্মাননা-২০১৮, বিদ্যাসাগর সম্মাননা-২০১৯ সহ প্রায় ৪০টিরও বেশি সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা।৪৮তম জন্মদিনে সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা কবি আলমগীর কবীর হৃদয়-এর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীল জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।