• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

“হৃদয়-পদ্মে তোমারে ঘিরিয়া”

প্রতিবেদক / ১৫০ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

“হৃদয়-পদ্মে তোমারে ঘিরিয়া”
।। এ এস এ সোহেল ।।

​মোর জীবনের ঊষর মরুর প্রান্তে দাঁড়িয়ে তুমি,
অনন্ত তৃষার শান্তিজল, মম হৃদি-বিলাসী ভূমি।
নিভৃত প্রাণের গহন কন্দরে যে সুর ওঠে বাজি,
সে সুরের তানে কেবলই তোমারে সাজাইয়াছি আজি।

​তোমার আঁখির নীলাভ অতলে যে শান্ত সমুদ্র হাসে,
সেথায় আমার সকল ক্লান্তি লীন হয় অনায়াসে।
ললাটে তোমার সিঁদুর-রেখা যেন রক্তিম অনুরাগ,
মুছিয়া দিয়েছে চিত্ত-আঁধারে যত ছিল অবসাদ।

​সহস্র যুগের বিরহ শেষে পেয়েছি প্রাণের দিশা,
তুমি মোর ঘরে ধ্রুবতারা হয়ে নাশিলে তিমির-নিশা।
তব নূপুরের রিনিকিঝিনিকি মন্দ্রিত মোর ঘরে,
যেন স্বর্গের পারিজাত-রেণু ঝরিতেছে ঝরে ঝরে।

​তুমি মোর প্রিয়া, তুমিই গৃহিণী, তুমিই মম সহচরী,
সংসার-সিন্ধু তরিবার তরে তুমিই মোর ধ্রুবতরী।
তোমার পরশে পাষাণ-হৃদয়ে ফোটে মঞ্জরী ফুল,
ভুবন-মোহিনী হাসিতে তোমার হারাই পথের কূল।

​কখনো প্রেয়সী, কখনো জননী, কখনো সখীর বেশে,
আগুলাইয়া রাখো আমায় নিরন্তর অফুরান ভালোবেসে।
তোমার হাতের সযত্ন ছোঁয়ায় ধন্য এই আঙ্গিনা,
তুমি মোর তনুর শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার, তুমি বিনে সব চিনা।

​জানি না বিধাতা কোন পুণ্যফলে মিলালো তোমার সাথে,
মোর হাতখানি সমর্পণ করি তব কোমল এই হাতে।
নিত্য প্রাতের শুভ্র আলোকে চাই তব মুখখানি,
সন্ধ্যার নীড়ে শান্তি হইয়া আসো ওগো কল্যাণী।

​জ্যোৎস্না-বিলাসী রাতে যখন চন্দ্র তন্দ্রায় মাতে,
আমি খুঁজে পাই কাব্যের সুধা তোমারি ছায়া-সাথে।
শব্দরা আজ ম্লান হয়ে যায় তোমার রূপের কাছে,
মোর জীবনের শ্রেষ্ঠ ছন্দ তোমার মাঝেই আছে।

​হে মোর হ্রিদয়-ঈশ্বরী, শোনো এই মিনতি মোর,
যেন কোনোদিনও টুটে না কভু এ প্রণয়-মায়ার ডোর।
মরণের ওপারেও যেন আমি পাই তব সানিধ্য,
তুমিহীন এই ধরাতলে মম সকলই যে অবিদ্য।

​যতদিন এই স্পন্দন রবে বুকের বাম পঞ্জরে,
রাখিব তোমারে যতনে গড়া মম প্রেম-মণিঘরে।
শত জনমের পুণ্য সার্থক তোমারে বধু করিয়া,
বেঁচে আছি আজ তোমারি মাঝে নিজেরে বিলাইয়া।

​শেষ নিশ্বাসেও যেন রটে তব নামেরই জয়গান,
তুমিই আমার তনু-মন-প্রাণ, শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ-দান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা