আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে শক্ত হাতে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের দাবিও করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনে ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটি দেশটির জন্য বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির চাপ মোকাবিলা করে ইরান তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ সংলাপকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন করে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিফলন থাকতে হবে।
এদিকে ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর ভাষ্য, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল।
বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী জনমতও বাড়ছে বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ। ৩৬টি দেশের ৪৪ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গড়ে ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে তেল আবিবে এক গাড়ি বোমা হামলায় মোসাদের এক শীর্ষ নারী কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হানদালা’। যদিও এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ওমানের গুরুত্বপূর্ণ মিনা আল ফাহাল তেল টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় অপরিশোধিত তেল লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে বিস্ফোরণের কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।