আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গতকাল স্থানীয় সময় ভোরে একাধিক এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে মার্কিন বাহিনী। চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি নজরদারি রাডার স্টেশনে পাল্টা হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থান পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালীর কাছে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করেছে ইরানি বাহিনী।
এদিকে সিরিক অঞ্চল ও কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তেহরান অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং তাদের সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক সুবিধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, নিক্ষিপ্ত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনজুড়ে যুদ্ধকালীন সতর্কতা জারি করা হয় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
লেবাননেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় এক জেনারেলসহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী। এর আগের দিনও ইসরাইলি হামলায় ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার জেরে লেবানন ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক বাকবিতণ্ডাও শুরু হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে, তবে পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় জটিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে, যা ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্ভাব্য কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, ওই অর্থ মুক্তি ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকা আরও জোরদার করতেই তার এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা, তাসনিম ও সিএনএন।