• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

ডুমুরিয়ায় ২০০ বিঘার ঘেরে বাগদা চিংড়ির মড়ক: মৎস্য বিভাগের জরুরী পরিদর্শন ও পরামর্শ

প্রতিবেদক / ৮ বার
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন।
ডুমুরিয়া খুলনা।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা আয়তনের একটি বিশাল সমবায় ঘেরে আকস্মিক বাগদা চিংড়ির মড়ক দেখা দিয়েছে। মড়কের খবর পেয়ে আজ (৭ জুন) সকালে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরী কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন।

স্থানীয় মৎস্য চাষীরা জানান, গত দুদিন ধরে ঘেরের বাগদা চিংড়িগুলো পানির উপরিভাগে ভেসে উঠছিল এবং তীরের কাছাকাছি এসে অলসভাবে ঘোরাফেরা করছিল। আজ সকালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি মারা গিয়ে ভেসে ওঠে। ২০০ বিঘার এই বিশাল ঘেরে হঠাৎ মড়ক দেখা দেওয়ায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট চাষীরা।

খবর পেয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের একটি দল দ্রুত ওই ঘেরে যান। তারা ঘেরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেন এবং আক্রান্ত চিংড়ি পরীক্ষা করেন।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত গরম, পানির স্বল্প গভীরতা এবং ঘেরের তলদেশে বিষাক্ত গ্যাস জমে যাওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। ২০০ বিঘার বিশাল আয়তন হলেও ঘেরটিতে পানির গভীরতা মাত্র আড়াই থেকে তিন ফুট, যা চিংড়ি চাষের জন্য অপর্যাপ্ত। তীব্র রোদে পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এবং তলদেশে জমে থাকা জৈব বর্জ্য পচে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি হওয়ায় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা (DO) আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এছাড়া দুর্বল চিংড়িগুলো সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

মড়ক দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে দ্রুত কৃত্রিম অ্যারোটার চালানো অথবা আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অক্সিজেন পাউডার প্রয়োগ করা।

২. তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে প্রতি বিঘায় ১ কেজি হারে জিওলাইট ব্যবহার করা।

৩. ঘেরে কৃত্রিম খাবার (ফিড) দেওয়া সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।

৪. ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো রোধে অনুমোদিত জীবাণুনাশক এবং পানির পিএইচ (pH) নিয়ন্ত্রণে ডলোমাইট চুন প্রয়োগ করা।

মৎস্য অফিস থেকে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, আক্রান্ত বা মৃত চিংড়িগুলো যেন কোনোভাবেই অন্য কোনো ঘের বা উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেলা না হয়। রোগ ছড়ানো বন্ধ করতে মৃত চিংড়ি দ্রুত নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চাষীদের সার্বিক যোগাযোগ ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা