হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
*রাজনৈতিক পরিচয় ও রক্ষাকবজ
*পুলিশের সাথে দহররম মহরম সম্পর্ক
*মাদক ও অস্ত্রের সাম্রাজ্য
*প্রশাসনের নীরবতা
অস্ত্র ও মাদকসহ আটক প্রায় দু,ডজন মামলার বহুল আলোচিত আসামি কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের গডফাদার, অস্ত্র ও মাদক কারবারি পুলিশের সোর্স খ্যাত নিষিদ্ধ সংগঠনের ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের নাম বেরিয়ে এলেও ১ মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার এড়িয়ে পুলিশকে লাল কার্ড দেখিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং তার ২য় স্ত্রী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজমিরা সুলতানা পাখি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। প্রায় এক যুগ ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচয়ে পুলিশের ক্যাশিয়ার খ্যাত সখ্যতা গড়ে তুলে জেলা জুড়ে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা ছাড়াও অস্ত্র ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আসলেও হতে হয়নি গ্রেফতার ও কোন মামলার সম্মুখীন। যে কারণে জুলাই আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়াদে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা নাসির-আজমিরা সুলতানা পাখি দম্পতি সম্প্রতি সময়ে অস্ত্র ও মাদক কারবার চালিয়ে গেলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারের নিকট একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গ্রেফতার বা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাজনৈতিক, ও সচেতন মহলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বদলি সহ নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে আসছে। ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের নিকট থেকে অস্ত্রকেনা এবং ভাড়া নিয়ে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ডাকাত ,ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসীরা একের পর এক চাঁদাবাজি, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতি সহ হত্যার মত ঘটনা একের পর এক ঘটিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশের টনক নড়েনি। সচেতন মহলের দাবি গ্রেফতারকৃত কোন আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসা কারো নাম মামলার অভিযোগ পত্র থেকে বাদ না দিতে উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন। ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এনায়েতুর রহিম একটি ফৌজদারী মামলার আদেশে বলেন কোন মামলার তদন্ত পর্যায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির যথার্থতা বিশেষজ্ঞ তার বিচার করার কোন ক্ষমতা তদন্ত কর্মকর্তার নেই। এটা যেভাবে আছে সেভাবেই তদন্ত কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নিতে হবে। জবানবন্দীর সত্যতা যথার্থতা স্বতঃস্ফূর্ততা যাচাই এবং মূল্যায়ন করা বিচারকের দায়িত্ব। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুসরণ করতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই। অথচ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন মহামান্য উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইয়া আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান বিষয়টি নিয়ে যাচাই-বাছাই তদন্ত চলছে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( কালিগঞ্জ সার্কেল) রাজিব হোসেন বিষয়টি তদারকি করছেন। তবে এর মধ্যে কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদলি হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে থানার অফিসার্স ইনচার্জ জুয়েল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে মিটিং এ আছেন পরে জেনে কথা বলবেন বলে জানান। থানার একজন অফিসার্স ইনচার্জের এমন বক্তব্যই উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ যেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনি, এমনই অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা জুড়ে মাদক বিস্তার ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুদ্দিন মোঃ জিহাদের নেতৃত্বে কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে গত ২৭ মার্চ রাতে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে যৌথ অভিযান চালানো হয়। উক্ত অভিযানে প্রায় দু’ডজন মামলার আসামি কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী তার ভাই বাহার আলী, রেজাউল ইসলাম ও আলমগীর নামে ৪ জনকে আটক করা হয়। ওই সময় তাদের নিকট থেকে ১টি নাইন এম,এম পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ২টি ওয়াকি টকি সেট এবং ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় খুলনা র্যাব-৬ এর উপ পরিচালক নায়েব সুবেদার (বিজিবি) মনসুর আলী বাদী হয়ে ২৮ মার্চ কালিগঞ্জ থানায় ডাকাত ইয়ার আলীর নামে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-(A)/১৯(F) অবৈধ অস্ত্র গুলি ম্যাগাজিন রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে ১ টি মামলা করে। কালিগঞ্জ থানার মামলা নং ২৩, যার জিআর নং ৫৮/২৬ । মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসাবে উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্য আরেকটি পৃথক মাদক মামলায় কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের পুত্র ডাকাত তরফদার, বেনাদোনা গ্রামের মাহমুদ আলী বিশ্বাসের পুত্র মাদক ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল এবং সোতা গ্রামের ভোনা মিয়ার পুত্র আবুবক্কারকে আসামি করে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬( ১ )সারণির ১০( ক) ৪১ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করে। কালিগঞ্জ থানার মামলা নং ২৪। জিআর ৫৯/২৬ । মামলা দায়েরের ঐ দিনেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠান। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অর্পিতা আক্তার দীর্ঘ শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল বিচারক সফিকুল ইসলামের আদালতের খাস কামরায় আসামিরা স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। উক্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার তরফদারের পুত্র প্রায় ২ ডজন মামলার আসামি ডাকাত ইয়ার আলী তার ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় তার জবানবন্দিতে বলেন ডাকাতি, চুরি, জমি দখলের কাজে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা কথিত সাংবাদিক নাসিরের বাড়ি কালীগঞ্জের মৌতলা থেকে ১ টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি ক্রয়/সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও ঐ জবানবন্দিতে উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির জমি দখল, চুরি ডাকাতি কাজে নাসিরের নিকট থেকে অস্ত্র ভাড়া ,কেনা এবং সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলেও দীর্ঘ ১ মাসেও অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়ী নাসিরকে আটক করেনি পুলিশ। এছাড়াও নাসিরের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের কন্যা মাসুরা বেগমের দায়ের করা সাতক্ষীরা পারিবারিক আদালতে ৩৫/২২ নং মামলার গত ১৩/৫/২৪ তারিখের রায়ে সন্তানের ভরণপোষণের ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও আজও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি। তবে সদ্য যোগদান করা কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আনিসুর রহমান গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পেয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাতে কাটাখালি নামক স্থানে গ্রেপ্তার করতে গেলে টের পেয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই দারোগার গাড়ি চালক বাদশাকে মোবাইলে হুমকি সহ ওই দারোগা থানায় কিভাবে চাকরি করে তার ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে বহাল তোবিয়াতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর আগে গত বুধবার সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সামনের প্রধান সড়ক থেকে স্থানীয় জনতা দেখতে পেয়ে প্রকাশ্যে গণপিটুনি , জুতা পিটা করলে পাশে পাইলস ডাক্তার নুরুল ইসলামের চেম্বারে যে পালায়। ওই সময় স্থানীয় বখাটেরা তার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে পিছন দরজা দিয়ে ছাড়িয়ে এসে সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও পুলিশ কিন্তু আজও পর্যন্ত তাকে খুঁজে না পাওয়ার নাটক চালিয়ে আসছে।