এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
বিশ্বকাপ ফুটবলের আকাশছোঁয়া উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে।
চলতি বছরের ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞের। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ইতিমধ্যেই সমর্থকরা সংগ্রহ করছেন পছন্দের দলের জার্সি ও পতাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি রঙের পতাকা ও জার্সিতে সাজানো হয়েছে পুরো দোকান।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই পতাকা ও জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যত এগিয়ে আসছে, বেচাকেনাও তত বাড়ছে। বাজারে বিভিন্ন আকার ও মানের পতাকা এবং নান্দনিক ডিজাইনের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। মান ও প্রকারভেদে এগুলোর দামেও রয়েছে ভিন্নতা।
স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ইব্রাহিম বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পতাকার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীরা পছন্দের দলের জার্সির খোঁজে আসছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকায় এখন বিক্রি একদম তুঙ্গে।”
স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে পছন্দের দল নিয়ে জমজমাট আলোচনা-সমালোচনা ও সমর্থনের তুমুল প্রচারণা।
কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ভ্যানে করে জার্সি ও পতাকা বিক্রি করছিলেন আবদুল কাদির। তিনি জানান, বিশ্বকাপ এলেই তিনি এই ব্যবসায় নামেন। প্রায় দুই দশক ধরে এই মৌসুমি ব্যবসা করে আসছেন তিনি।
আবদুল কাদির তাঁর পণ্যের দামের বিবরণ দিয়ে বলেন, তিনি ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের বড় পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া ৫ ফুটের বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়।
বেচাকেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আবদুল কাদির বলেন, “ঈদের আগে বিক্রি বেশ ভালো ছিল। অনেকেই বাড়ি ফেরার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি ও পতাকা কিনে নিয়ে গেছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী।” খেলা শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এই বিক্রেতা। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে জার্সিতে নাম ও নম্বর লেখার কাজেও ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। নাম লেখার কারিগর রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “সাধারণ জার্সিতে সাধারণ রঙ দিয়ে নাম লেখাতে ৫০ টাকা, সাদা স্টিকার দিয়ে ১০০ টাকা আর অফিশিয়াল জার্সিতে প্রিমিয়াম কোয়ালিটিতে নাম লেখাতে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নাম লেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এরপরই রয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগালের অবস্থান।
বোয়ালিয়া থেকে জার্সি কিনতে আসা ক্রেতা মনির হোসেন মাহিন ৮৫০ টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের একটি জার্সি কিনেছেন। তিনি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “বাজারে সবকিছুর দামই এখন বাড়তি। জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও ভালোবাসার দলের জন্য তা মেনে নেওয়া যায়। তবে জার্সিতে নাম লেখানোর খরচটা তুলনামূলক একটু বেশি মনে হয়েছে।”
সব মিলিয়ে কটিয়াদীতে এখন মাঠের ফুটবল শুরুর আগেই যেন উৎসবের রঙিন আমেজ পূর্ণতা পেয়েছে।